*কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-এর আগে বীমা খাত থেকে পেনশন কর ছাড় এবং সমান সুযোগ-সুবিধার দাবি*
কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-এর আগে, জীবন বীমা খাতের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ ভারতে অবসরকালীন নিরাপত্তা, বীমার প্রসার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করার জন্য নির্দিষ্ট কর সংস্কার, নিয়ন্ত্রক সমতা এবং টেকসই সরকারি বিনিয়োগের ডাক দিয়েছেন।
ইন্স্যুরেন্স অ্যাওয়ারনেস কমিটির কো-চেয়ারপারসন ভেঙ্কি আইয়ার বলেন যে, কর ব্যবস্থা পেনশনভোগীদের আয়ের ওপর অসম প্রভাব ফেলে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পেনশনের কর ব্যবস্থাকে অন্যান্য ফিক্সড-ইন্টারেস্ট ইনস্ট্রুমেন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে কেবল সুদ বা লাভের ওপর কর ধার্য করলে তা অবসর পরবর্তী আয় বৃদ্ধি করবে এবং জীবন বীমার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়কে সচল করবে। আইয়ার সেইসব পেনশনভোগীদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের সুপারিশ করেছেন যারা তাদের জমানো অর্থ এককালীন উঠিয়ে ফেলেন না, এতে সকল পেনশনভোগীদের মধ্যে করের সমতা নিশ্চিত করা যাবে।
কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ইন্ডিয়াফার্স্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এমডি এবং সিইও ঋষভ গান্ধী বলেন যে, ২০৪৭ সালের মধ্যে “সবার জন্য বীমা” লক্ষ্যটি বাস্তবায়নের জন্য শিল্পের বাজেট ২০২৬-এর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। তিনি জীবন বীমাকে একটি দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক সুরক্ষা পণ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সাশ্রয়ী মূল্য বজায় রাখতে জিএসটি ছাড়ের পর বীমা গ্রহণকারীদের জন্য ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের সুবিধা চেয়েছেন। গান্ধী অবসরকালীন কভারেজ বাড়াতে জীবন বীমা সংস্থাগুলোর পেনশন পণ্য এবং ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেমের মধ্যে নিয়ন্ত্রক ও কর সংক্রান্ত সমতা আনার অনুরোধ ও করেছেন।
অন্যদিকে, শ্রীরাম লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রেসিডেন্ট এবং চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার অজিত ব্যানার্জি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে মূলধনী ব্যয় অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা, রেলপথ, জাহাজ নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে উচ্চতর বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু-ঝুঁকি প্রশমন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণায় আরও বেশি ব্যয়ের ওপর জোর দেন।
কর ব্যবস্থার বিষয়ে ব্যানার্জি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংস্কারের ফলে পরিবর্তনের সুযোগ কমে এলেও, বীমার জন্য কর ছাড়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করা, তা সে ধারা ৮০সি থেকে আলাদা করেই হোক বা এই সীমার ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়েই হোক, সবটাই বীমার প্রসার ঘটাতে সাহায্য করবে।
Comments
Post a Comment