গো-সম্পদ সুরক্ষা ও গ্রামীণ স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে উত্তর ২৪ পরগনায় বিজেপির 'কাউ ডেভেলপমেন্ট সেল'-এর মহতী সাংগঠনিক সমাবেশ

ব্যারাকপুর, ৬ই জুলাই: গ্রামীণ অর্থনীতির অভূতপূর্ব বিকাশ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সনাতন গো-সম্পদের সামগ্রিক উন্নয়নের এক সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা উত্তর অংশে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) 'কাউ ডেভেলপমেন্ট সেল' বা গো-বংশ বিকাশ সেলের পক্ষ থেকে এক বিশেষ সাংগঠনিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মূল ভাবনা ও আদর্শকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশটি দলীয় নেতৃত্ব ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সুষ্ঠু পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন প্রবীর ঘোষ তিনটে জনের জোনাল কনভেনার মেদিনীপুর বীরভূম ও উত্তর চব্বিশ পরগনা। এছাড়াও     জেলা কনভেনার জয় ঘোষ এবং সম্পাদক সতীশ সিং।

​উক্ত সভায় প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির তাৎপর্য ও গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলেন প্রখ্যাত বিধায়ক কৌস্তব বাগচী, বিজেপির জেলা প্রেসিডেন্ট তাপস ঘোষ এবং ব্যারাকপুরের সাংগঠনিক কনভেনার মানস দে। একইসঙ্গে রাজ্য স্তরের বিশেষ দিকনির্দেশনা ও রূপরেখা তুলে ধরতে উপস্থিত ছিলেন কাউ ডেভেলপমেন্ট সেলের স্টেট কনভেনার দিলীপ ভুতরা। গো-সুরক্ষা আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি ও দক্ষিণবঙ্গের সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ বঙ্গ প্রান্তের গো রক্ষা প্রমুখ ইন্দ্রনাথ রায়।
এই কর্মসূচিকে তৃণমূল স্তরে সফল করতে এবং প্রতিটি বিধানসভা ও ব্লকে গো-উন্নয়ন সেলের বার্তা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কনভেনারদের নাম ও সাংগঠনিক দায়িত্ব এই মঞ্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এই তালিকায় রয়েছেন টিটাগরের কনভেনার বিকাশ হ্যালা, রাকেশ সরকার (ব্যারাকপুর), সাহেব বিশ্বাস (নোয়াপাড়া), সনু সিং (জগদ্দল), বিকাশ সাউ (ভাটপাড়া), সম্রাট ঘোষ (বীজপুর) এবং সুরাজ রজক (নৈহাটি)। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ প্রত্যেকেই নিজেদের অঞ্চলে গো-বংশ রক্ষা এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
​সমাবেশে বক্তারা অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, গো-পালন কেবল একটি ধর্মীয় বা সামাজিক প্রথা নয়, বরং এটি ভারতের গ্রামীণ জনজীবনের মূল অর্থনৈতিক ভিত্তি। গো-বংশ বিকাশ সেলের এই অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে গোবর থেকে প্রস্তুত উচ্চমানের উত্তম জৈব সার এবং গোমূত্রকে ফসলের প্রাকৃতিক ও নিরাপদ রক্ষাকবচ হিসেবে কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ যেমন বিপুল পরিমাণে হ্রাস পাবে, ঠিক তেমনই সাধারণ মানুষ বিষমুক্ত ও পুষ্টিকর ফসল লাভ করতে পারবেন।
​এর পাশাপাশি, গো-সম্পদের অনন্য ঔষধি ও পুষ্টিগুণকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এই সেলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত সামগ্রীর অমৃতময় গুণাগুণ প্রচারের পাশাপাশি গোমূত্র থেকে মানবোপযোগী বিভিন্ন ঔষধি উপাদান তৈরির বিষয়ে গ্রামীণ যুবসমাজকে সচেতন ও প্রশিক্ষিত করা হবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ উপার্জনের পথ সুগম করবে। সামগ্রিকভাবে, গো-রক্ষার মাধ্যমে দেশের পরিবেশ রক্ষা, জনস্বাস্থ্যের অভূতপূর্ব উন্নয়ন এবং সমাজে মানবিক গুণের পুনর্জাগরণ ঘটানোই এই বিশেষ সেলের মূল অভীষ্ট। আগামী দিনে সমগ্র উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রতিটি ব্লকে ও গ্রামে এই বৈপ্লবিক বার্তা ছড়িয়ে দিতে ব্যাপক জনসংযোগ ও প্রচার অভিযান চালানো হবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

Comments

Popular posts from this blog

Global Scholastics to help students find their universities worldwide for higher studies

আবৃত্তিচর্চা ও সমাজকল্যাণে নতুন দিগন্ত: কলকাতায় পথ চলা শুরু করল 'আবৃত্তি জাগরণ মঞ্চ'

​महाजाति सदन में धूमधाम से मनाया गया बालिका शिक्षा सदन व मुरारीलाल मेहता विद्यामंदिर का प्लेटिनम जुबली समारोह