যে ৫টি হজমজনিত উপসর্গ কখনওই অবহেলা করবেন নাডাঃ অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কনসালটেন্ট – সার্জিক্যাল অঙ্কোলজি ও সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি, নারায়ণা হাসপাতাল, বারাসাত

মাঝেমধ্যে অম্বল, পেট ফাঁপা বা বদহজম হওয়া খুবই সাধারণ বিষয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা সাময়িক অস্বস্তির কারণ হয়। কিন্তু এই উপসর্গগুলি যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে বা বারবার ফিরে আসে, তাহলে শুধুমাত্র ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ খেয়ে তা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। কারণ, এগুলি কোনো অন্তর্নিহিত গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এগুলি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্ট্রোমাল টিউমার (GIST)-এর মতো ক্যানসারেরও ইঙ্গিত দিতে পারে।
জুলাই মাসে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্ট্রোমাল টিউমার (GIST) সচেতনতা দিবস উপলক্ষে এই বিরল ধরনের ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। GIST তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও, এর লক্ষণগুলি দ্রুত শনাক্ত করা গেলে সময়মতো রোগ নির্ণয় ও কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব।
হজমের এই ৫টি উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন:
১. দীর্ঘদিনের পেটব্যথা বা পেটে অস্বস্তি - খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন বা ওষুধ সেবনের পরেও যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে পেটব্যথা বা অস্বস্তি থেকে যায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
২. অল্প খেয়েই পেট ভরে যাওয়া (আর্লি স্যাটাইটি) - স্বাভাবিকের তুলনায় খুব অল্প খাবার খেলেই যদি পেট ভরে যায়, তাহলে তা পাকস্থলীর ভিতরে কোনো টিউমার বা অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে পাকস্থলীর ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
৩. কালো রঙের মল, রক্তবমি বা অকারণ রক্তাল্পতা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল - রক্তক্ষরণ হলে অনেক সময় কালো, আলকাতরার মতো মল হতে পারে বা বমির সঙ্গে রক্ত বেরোতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে এই রক্তক্ষরণ চোখে ধরা পড়ে না, কিন্তু তার ফলে রক্তাল্পতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৪. দীর্ঘদিনের বমিভাব বা বমি -একটানা বমিভাব বা বারবার বমি হওয়ার সঙ্গে যদি পেটব্যথা বা খেতে অসুবিধা থাকে, তাহলে তা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বাধা (অবস্ট্রাকশন) বা অন্য কোনো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
৫. ওজন কমে যাওয়া বা পেটে টিউমার - কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া কিংবা পেটে অস্বাভাবিক  ফোলা অনুভব হলে তা কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন, কারণ এগুলি গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে।
এছাড়াও, যদিও তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়, GIST-এ আক্রান্ত কিছু রোগীর টিউমার ফেটে যাওয়া, রক্তক্ষরণ বা অন্ত্রে ছিদ্র হওয়ার কারণে হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা হতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসার দাবি রাখে। ছোট অন্ত্রে GIST হলে অন্ত্রে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। আবার বিরল ক্ষেত্রে যদি এই টিউমার খাদ্যনালিতে (ইসোফ্যাগাস) তৈরি হয়, তাহলে খাবার গিলতে অসুবিধা (ডিসফ্যাজিয়া) দেখা দিতে পারে।
GIST-এর অন্যতম বড় সমস্যা হলো, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো উপসর্গই থাকে না বা থাকলেও তা গ্যাস্ট্রাইটিস, পেপটিক আলসার বা সাধারণ বদহজমের মতো পরিচিত সমস্যার সঙ্গে মিলে যায়। ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়। তবে বর্তমানে এন্ডোস্কোপি, আধুনিক ইমেজিং, উন্নত অস্ত্রোপচার পদ্ধতি এবং লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসার অগ্রগতির ফলে GIST-এর চিকিৎসার ফলাফল আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে।
সবশেষে, মনে রাখা জরুরি—সব অম্বল, বদহজম বা হজমের সমস্যা যে ক্যানসারের লক্ষণ, তা নয়। তবে এই ধরনের উপসর্গ যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে, ক্রমশ বাড়তে থাকে অথবা এর সঙ্গে রক্তক্ষরণ, রক্তাল্পতা, বারবার বমি, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা পেটে গাঁটের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে তা কখনওই অবহেলা করবেন না। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে GIST-সহ অন্যান্য পরিপাকতন্ত্রের গুরুতর রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব।

Comments

Popular posts from this blog

A new flight for healthcare in Kolkata, Aastik Healthcare to offer e-clinics and online pharmacy alongside physical counterparts

Global Scholastics to help students find their universities worldwide for higher studies

আবৃত্তিচর্চা ও সমাজকল্যাণে নতুন দিগন্ত: কলকাতায় পথ চলা শুরু করল 'আবৃত্তি জাগরণ মঞ্চ'